অন কিলিং আ ট্রি
গত তিনদিনে তিরিশবার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কবিতাকে একটি লাইনও দিতে পারিনি, তাই গদ্য লিখতে বসে পিছিয়ে যেতে হলো আরও তিন সপ্তাহ : নিজেকে দুহাতে জড়িয়ে থাকা কোনো সত্তা দিনের পর দিন ঝাঁকরা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল আমাদের সামনে। তাকে আরও সুস্থ তরতরে যাপন দেবো এই আশায় ডানা ছাঁটবার ব্যবস্থা হলো। কায়দাটা বাবা রপ্ত করেছিল দ্বিতীয় দিন আর আমি শিখতে গিয়ে মজা পেয়ে গেলাম, সোজাভাবে একবার ডানদিকে কোপ একবার বাঁদিকে, ব্যাস, ঝুপ্ ঝুপ্ করে খসে পড়বে জোড়াজোড়া হাতপাগুলো ; মাথার সবুজ ঘাঁ ধীরেধীরে শুকিয়ে যাবে। সেই তো মহানন্দে বাপ-ব্যাটা মিলে কুপিয়ে কুপিয়ে শেষমেশ একটা মার্জিত অবয়ব দিলাম তালগাছটাকে। তিনজনেরই ঘাম ঝরলো বিস্তর। প্রচুর জ্বালানি হলো মায়ের। গাছটাকে এবার বেশ সুঠাম সুপুরুষ লাগছে, একেবারে মেদহীন, যেকোন মেয়েগাছের প্রথম পছন্দ হতে পারে। অর্থাৎ প্রকৃতি বিজ্ঞান পড়তে পড়তে কীভাবে যেন আমি জগদীশচন্দ্রকে অস্বীকার করেছিলাম, আর প্রতিটা স্বীকৃত কামড় বসিয়ে সফলতা উপভোগ করেছিলাম। কিন্তু সৎ ছিলাম। ভেবেছিলাম, এভাবে কষ্ট পেয়ে গাছটা নিজেকে নতুন বাঁচার আনন্দ দেবে। শরীর জুড়ে সমস্ত ক্ষত নিয়ে দিব্যি দাঁড়িয়ে রইলো গাছটা তিন সপ্তাহ। বাইরের কাটাছেঁড়া ঢেকে গ্যালো রোদেজলে, অথচ ভেতরে বেড়ে চলল প্রস্তুতি। মা দেখতে পেলো প্রথম - অবশিষ্ট পাতাগুলো কেমন শুকিয়ে আসছে, তোরা দুজন মিলে গাছটাকে মারলি! এ আর বাঁচবে না।
তিন সপ্তাহ পর আমি আর বাবা গিয়ে দেখলাম হ্যাঁ, গাছটা প্রস্তুত। আমি সটান ওর বুকে পা রেখে দেখলাম হৃৎপিণ্ডের নরম মেনে নেওয়া, ভেতরে তলিয়ে যাওয়ার শব্দ। বাবাকেও শোনালাম, বাবা বলল, তাও ছ' মাস দেরি আছে...
ততক্ষণে আমি উপলদ্ধি করলাম, আমার খারাপ লাগছে, ভীষণ খারাপ লাগা মতো হচ্ছে ভেতরে অর্থাৎ আমার একটা কবিতা লেখা উচিত! কিন্তু তখন দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে, খাওয়া হয়নি, সেটা হলে আবার রাতে খাওয়ার প্রস্তুতি, যেমন গাছ নেয়, জীব মাত্রেই নিতে হয়। আর বাবা তো বললই - তাও ছ' মাস দেরি আছে...
অথচ ছবিটি পরদিন সকালে তোলা, তারও তিনদিন পর আজ। সুতারাং
সৌরভ_বর্ধন
২৯.০১.২০১৯

Comments
Post a Comment