হাসিক_রুণা
তারপর ঘুম থেকে উঠে জানলা বন্ধ করে দিই। এসময় জানলা দিয়ে অন্ধকার ঢুকে যায়। আর কে না জানে অন্ধকারে হাসা ভীষণ অস্বাস্থ্যকর। তাই অন্ধকার হওয়ার আগেই আমি হাঁটতে বেরই আর হাসি, হাসির কথা উঠলে বলি হাসবো হাহা হাহা। যদিও অত জোড়ে হাসতে আমি পারি না, ওটা আমার প্রেমিকা রপ্ত করেছে বা ওর বা ওদের স্বভাবগত, আমার নয়। তবুও রাস্তায় একা একা হাসতে দেখলে আমায় যারা পাগল ভাবে তারা তো জানে না দীর্ঘ দিন হলো আমার লাগানো বাঁশগাছগুলো বেশ বড়ো হয়ে উঠেছে, তারা দোল খায়, মড়মড় আওয়াজ করে মনের ভেতর; এই ঝাড়ে কোনো ভূত নেই, কোনো ভবিষ্যৎ যে আছে সে কথাও নিশ্চিত করে বলতে পারি কই! পারি না বলেই হাসি, করুনা হয় তাই হাসি। করুণানিধান নামে শান্তিপুরে এক কবি ছিলেন, তাঁর 'পদ্মপুকুরে' কবিতায় আমি হাসি বা করুণা কোনোটারই উল্লেখ পাইনি, শুধু প্রকৃতির নিখাদ বর্ণনা পেয়েছি; আচ্ছা প্রকৃতি বললেই তো গাছের কথা পাখির কথা জলের কথা মনে আসে, এরা কি হাসতে পারে? অথবা করুণা? কী জানি! পারলেও কী বলবে আমায়? আমি কি অতটা কাছের যতটা কাছের হলে বান্ধবী আর হাসতে পারে না, শুধু গরম নিঃশ্বাস ফেলতে পারে শুধু দম বন্ধ করে দিতে পারে, কে জানে! আমি তো কিছুই জানি না। জানতে হলে আমায় যা যা করতে হবে বলে আমি জেনেছি তা তা করা আর একটা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরা সমগোত্রীয়। কিন্তু প্রেম তো গোত্র ভিত্তিক নয়, যারা গোত্র কী এটা জানে না তাদের প্রেম বোঝানো মুশকিল, কারণ ছোটো থেকে আমরা জেনে এসেছি প্রেম খুব বাজে জিনিস, পবিত্র অনুভূতি থেকে প্রেম হয়, প্রেমে পড়লে মাথা বিগড়ে যায় ব্লা ব্লা ব্লা, কিন্তু এটাও তো ঠিক ছোটোবেলা থেকে এসব না জানলে আমাদের মধ্যে ক' জন প্রেম করত বা পড়ত তার হিসেব করা আমার কাজ নয়। তবুও যে গুটিকতক প্রেম আমি করেছি তাতে হাসি ছিল আর করুণাও ছিল না তা কী করে বলি কারণ আমি কোনো ক্ষেত্রেই সফল নই আর সফলতা বলতে আমরা বা আমি যা বুঝি তা সকলকে বোঝানো একটু টাফ্, কখনই পরিপূর্ণতা পাবে না, তৃপ্তি পেতে পারে, তবে তার জন্য শম্ভু মিত্রের 'বিভাব' নাটকটি পড়তে হবে, নইলে যে পিছিয়ে পড়তে হবে তা নয়, তবুও বৌদির কথা উঠলে এটা পড়ে নেওয়া দরকার। নেহাত রাস্তায় যাদের দেখি তাতে... । যাইহোক, হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে এসব ব্যাপারে যাদের কথা আমার মনে পড়ে তাদের আমি করুণা করিনি। শুধুই হেসেছি সেটা বলাও ভুল হবে। কারণ প্রথমেই বলেছি সেই হাসি আমি রপ্ত করতে পারিনি আজও। কিন্তু তার মানে এই নয় যে ফেরার পথে অসাধারণ ড্রেনেজ সিস্টেম আমি দেখতে পাই না, দেখতে পাই, উপচে পড়া প্লাস্টিক ব্যবস্থাও আমি দেখতে পাই, সবটাই চোখে পড়ে, তবে যতটা পড়লে জ্বালা করে ততটা নয়। এসব দেখে হাসি না করুণা কোনটা আমার পাওয়া উচিত তা কে বলে দেবে আমায়? নিশ্চয় আমার দাঁত বা চোখ এতো কিছু জানে না, জানলে তো এতদিনে বাঁধাতে হতো বা চশমাক্ত হতে হতো, কই তেমন তো কিছু হয়নি। রোজ তো কত কিছু ঘটে যাহা তাহা, এমন কেন সত্যি হয় না আহা! বলতেও হয়নি আমায়। সুতারাং
সৌরভ_বর্ধন
৩১.০৩.২০১৯

Comments
Post a Comment