মেঘ সংহিতা





এ যাবৎ আমি অনেক রকম মেঘ শিকার/ স্বীকার করেছি -
স্বচ্ছ অলক মেঘ আকাশে থাকা সত্ত্বেও আমি সূর্যের পালকে
দেখেছি পারস্পারিক বন্ধন -

(মেঘ - ১)

জলের মতো শুয়ে থেকে থেকে একদিন সবাইকেই বাষ্প
হতে হয়। মেঘ হতে হয় সকলকে। আমাদেরও তেমন স্বপ্ন
ছিল। বাষ্প জমিয়ে জমিয়ে বোমারু মেঘ হতে চেয়েছিলাম।
ঠিক এমনই মেঘলা দিন - আকাশে ঝুলতো মেঘের ঝুরি;
আমরা জানলায় টাঙিয়ে দিতাম ধৃতরাষ্ট্রের চোখ, আমাদের
ব্লাউজ-শাড়ি ভিজে একসা।

(মেঘ - ২)

রাত জেগে আমরা ফসফরাস আলো পাহারা দিতাম।
আকাশে নেবুলা দেখা দিত ঈর্ষান্বিত কাছের পাঁচিলগুলোয়;
আমরা জানলা খুলে দিতাম পেয়ারা পাতার বইয়ে। প্রত্যেক
সৎ মুহূর্তে আমার ঘুম আসতো না, আমি চমকে উঠতাম।
পায়ে পায়ে নির্মেদ সময় আরও তাপ বর্জন করে শীতলতম
রাত্রি পেতো। তারপর ধূলিকণার আশ্রয় হয়ে ওঠার পালা।
একটু একটু করে উষ্ণতা ভুলে আমরা মেঘ হবো ভাবতাম।

(মেঘ - ৩)

এক ঝাঁক অবাধ্য ম্যাকারেল মাছ, হ্যারিকেন আর আমার
মা গুনগুন স্বরে মাঠা তাঁত আগলাতো বর্ষায়। আমাদের সব
দুঃখরা ডাকসাইটে অন্ধকারে চড়াও হতো অন্ধকারাচ্ছন্ন
চুলের ভেতর। আমি শব্দ হারাবার ভয়ে বিপ্ বিপ্ খিস্তির
মালা পড়িয়ে দিতাম প্যাঁচার তারে! ধূসর নীল রঙের সরু
স্তরবিশিষ্ট কিছু তন্তুমেঘের তলদেশ থেকে ঝালরের মতো
বৃষ্টিকে আমি ঝুলতে দেখতাম যারা আজও পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়নি।

                      ___________________

©সৌরভ বর্ধন

Comments

Popular posts from this blog

লেডি বাটন্

ঘোটকী পুরাণ কাহীনি

বনচাঁড়ালের রিপোর্ট : পজিশন 69